ইবিতে আবাসিক-অনাবাসিক খাবারের মূল্যে বৈষম্য

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫৭ পিএম


ইবিতে আবাসিক-অনাবাসিক খাবারের মূল্যে বৈষম্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আরটিভি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে হল কর্তৃপক্ষ। তবে খাবারের টোকেন বিতরণে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্য বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (২৫ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেনের মূল্য ৭০ টাকা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হল প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে উন্নতমানের খাবারের টোকেন আগামী ২৮ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টার মধ্যে নিজ নিজ হলে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সংগ্রহ করতে হবে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেনের মূল্য ৭০ টাকা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মূল্য পার্থক্যকে কেন্দ্র করেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফি-সংক্রান্ত এ পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফসল। সেই দিবসের খাবারের টোকেনেই যদি আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হাস্যকর।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন ফেসবুকে লেখেন, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে উন্নতমানের খাবারের টোকেনের মূল্যে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভোস্ট কাউন্সিল কর্তৃক সৃষ্ট বৈষম্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ইবি ছাত্রদল। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নে রক্ত দেওয়া গণঅভ্যুত্থানের স্মারক দিবসে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন দ্বিমুখী নীতি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। আমাদের দাবি, সব শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন ও সুলভ মূল্যে খাবারের টোকেন নিশ্চিত করতে হবে।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. রাশেদুল ইসলাম রাফি লেখেন, জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাই ছিল ‘বৈষম্যহীন সমাজ ও ক্যাম্পাস গঠন’। সেখানে এই দিবস উদযাপনেই আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন আর্থিক বৈষম্য সবাইকে ব্যথিত করে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান অংশীদার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আবাসিক ও অনাবাসিক বৈষম্য দূর করে সব শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের মূল্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন জানান, এটি প্রভোস্ট কাউন্সিলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। যেহেতু ৫ আগস্টের আগে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না, তাই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আবাসিক শিক্ষার্থীরা সারা বছর হলের বিভিন্ন খাতে নিয়মিত ফি প্রদান করে থাকে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রভোস্ট কাউন্সিল টোকেনের মূল্য নির্ধারণ করেছে। এখানে কাউকে বৈষম্যের শিকার করার উদ্দেশ্য নেই।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission